বানিজ্য

ইভ্যালি’র চাকরি ছেড়ে অন্য চাকরি করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ।

বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির একজন সাবেক কর্মী যিনি ইভ্যালির কলসেন্টারে কাজ করতেন এবং গ্রাহকদের সাথে নিয়মিত কথা বলতেন। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেনায় পড়ে পেছনের সারির কর্মকর্তাদের বেতন না দিয়েই চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে । আবার কিছু কর্মী জানালেন তাদেরকে চাকরি থেকে বের করার সময় পরামর্শ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ভালো চাকরি খোঁজে নেয়।

তারা অনেক অভিযোগ করছেন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ গুলো হলো – তাদের দিয়ে ১৪/১৫ ঘন্টা কাজ করানো হতো,নিয়োগপত্র দেওয়া হতো না, গ্রাহকদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ায় বাধ্য করা ইত্যাদি। এসব নিয়ে ইভ্যালির প্রধানের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি কল রিসিভ করেন নি এমনকি তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না তার কাছে খবর পাঠানোর পরেও।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়। পরে পন্যের অর্ধেক দামে সরবরাহের কাজ শুরু করে তারা। এটিকে তারা অফার হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন। এর ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই ফ্রিজ, এসি, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেত কার সহ অনেক পন্য কিন্তে জনগন ছুটে আসে।

এসব পন্য নেনার জন্য ক্রেতারা আগেই টাকা দিয়ে দিতো। কিন্তু তারা সবাইকে পন্য সরবরাহ করতে সক্ষম হতো না ফলে কিছু ক্রেতা পন্য পেতো আর বাকিরা অপেক্ষায় থাকতো। এটিই ছিল তাদের ব্যাবসার কৌশল। এর পর থেকেই তাদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের দেশ ত্যাগ করতে মানা করা হয়েছে।

আরও দেখা গেছে ২লাখ ১৪ হাজার গ্রাহক বুকিং দিয়ে রেখেছেন পন্য ক্রয়ের জন্য এবং ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই বুকিং এর জমা বাবদ ৩১০ কোটি টাকা। এসব গ্রাহকরা এখন ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন ইভ্যালির দিকে। এসব গ্রাহকদের সামলানো কতটা কষ্টের তা জানিয়েছেন কল সেন্টারের কাজ ছেড়ে আসা একজন কর্মী। এইবকর্মী দীর্ঘদিন পাঠাও, গ্রামীণ ফোনের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে কাজ করেছেন। কল সেন্টারে গ্রাহকেরা তাদের সমস্যার সমাধান পান কিন্তু এখানে গ্রাহকদের ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে হয়। তিনি আরো বলেন এখানের কর্মীরা ২/৩ মাসের বেশি টিকতে পারেন নি। টিকতে পেরেছে তারাই যারা ক্রেতাদের সাথে কথা না বলে শুধু কর্মকর্তাদের মিথ্যা বলাতে বাধ্য করে।

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, “প্রতিদিনের ১৪/১৫ ঘন্টায় যদি ১৫০ টি কল আসে তার থেকে ১৪০ টি কলে ক্রেতারা তাদেএ হাহুতাশ প্রকাশ করেছেন আর আমাদের উত্তর হতো আপনারা খুব তাড়াতাড়ি পন্য পেয়ে যাবেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা স্বপ্ন। এখানে শুধু শুধু টাকা ইনভেস্ট করে অনেকে বলেন তারা তাদের বাড়িঘর বন্দক রেখে, বিক্রি করে, গরু ছাগল বিক্রি করে তার টাকা দিয়ে পন্য অর্ডার করেছিলেন। এসব শুনে আমরা সব মিথ্যা আশা দিয়ে নিজেরাই ট্রমার মধ্যে আছি।” তিনি আরো জানান তাদেরকে কোনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয় নি তাই চাকরি ছড়ে চলে আসাটাকেই তিনি ঠিক মনে করছেন।

আবার আরেক নারী কর্মী যিনি মাত্র ২ মাস ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে কাজ করেছেন তিনি জানান তাদেরকে কোনো তথ্য দিত না কর্তৃপক্ষ আর তাদের বলা হয়েছিল তাদের কাজ সমস্যার সমাধান দেওয়া নয় শুধু অ্যাপলজি করা। আরেকজন জানান তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে আরো কর্মী আসেন কিন্তু তাদের বেতন এখনো আটকে আছে। কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে চলতি মাস ও সামনের মাসের বেতন দেওয়া হবে না।

আরেকজন কর্মী( মেহেদী হাসান) জানান তিনি কোম্পানির অবস্থা দেখেই জুন মাসের বেতন নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু চাকরিরত অন্য্রা বেতন বোনাস এমনকি চলতি মাসের বেতনও পান নি।

করোনায় বন্ধ শেষ হলে নতুন করে খুলে কর্মীদের কাছ থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অন্য জায়গায় চাকরির সন্ধান কিরতে বলা হয়েছে। আবার কাস্টমার সার্ভিসের ১৮০ জন কর্মীকে কাজে নিষেধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ থেকে রিজাইন দিতে বলেছে। পরে তাদের বেতন আরও দুইমাস পর দিয়ে দেওয়া হবে যা অবিশ্বাস্য।

রাকিব নামের একজন জানান তারা আগে জনগনকে আস্থা দিতো এখন তাদের বেতন দেওয়া হবে বলে আস্থা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু যা একদমেই বিশ্বাস করার নয়। তিনি বলেন মহামারির ছুটি শেষে ২১ আগস্ট অফিসে যেতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি এর দুইদিন পরে গেলেই তার ডেস্কটপ রেখে তাকে আর না যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের বেতনের কোনো খবর নেই। তাদেরকে বলা হচ্ছে এখান থেকে গিয়ে নতুন চাকরি নেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ জুলাই মাসের বেতন দেয় নি।

এরকম বহু কর্মীর অভিযোগ আছে যাদের প্রত্যেককে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে তাদের ঠকানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button