ই-কমার্স

গ্রাহকরা প্রতারণার মুখে পড়ছে রিং আইডির ফাঁদে পা দিয়ে

বর্তমানে ই-কমার্স কেনাবেচার জন্য জনপ্রিয় একটি মাধ্যম ও এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এই জনপ্রিয়তার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চক্র অফার দিয়ে লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ও গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এমন একটা মাধ্যম হলো “রিং আইডি।

এখানে আইডি খুলার কথা বলে আয় করার জন্য অনেক লোভ দেখনো হয় ও গ্রাহকের কাছ থেকে এই সময়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রাহকেরা মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়।

এমন কয়েকজন গ্রাহক বলেন, তারা প্রথমে ২২০০০ টাকা পে করে গোল্ড মেম্বারশিপ কেনার জন্য পরে একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলেও আইডি একটিভ করা হয় নি। পরে এই বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো কাজে লাগেনি। এভাবে অবেক গ্রাহক তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

আবার কিছু গ্রাহক মেম্বারশিপ  পাওয়ার পরেও ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের নিজেদের যে জমানো টাকা আছে তারা সেগুলো তুলতে পারছেন না। ফলে হয়রানি হতে হচ্ছে।

তাদের বেশকিছু প্যাকেজ অফার আছে। সিলভা মেম্বারশিপের মূল্য ১২০০০ টাকা,গোল্ড মেম্বারশিপের মূল্য ২২০০০ টাকা,প্রবাসী গোল্ড ২৫০০০ ও প্রবাসী প্লাটিনাম ৫০০০০ টাকা। প্রবাসী গোল্ড ও প্রবাসী প্লাটিনাম গোল্ড প্যাকেজগুলো হলো প্রবাসী প্যাকেজ।

মেম্বার শিপের পরে আইডিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে যত বেশি গ্রাহক দেখে তত আয়। এই নিয়মে সিলভার প্যাকেজ থেকে দিনে ২৫০ ও প্রতি মাসে ৭৫০০ টাকা,  গোল্ড মেম্বারশিপে দিনে ৫০০ ও মাসে ১৫০০০ টাকা, প্রবাসী গোল্ড মেম্বারশিপে গোল্ড মেম্বারশিপের মতই, এবং প্লাটিনাম প্যাকেজে দিনে ১০০০ ও মাসে  ৩০০০০ টাকা আয়ের অফার দেয় রিং আইডি। খুব কম সময়ে বেশি লাভের চিন্তা করে গ্রাহকরা টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হচ্ছে।

এসব মেম্বারশিপ থেকে রকেট,বিকাশ ও নগদের মত মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ১০ দিন পরপর সর্বনিম্ন ২০০ ও সর্বোচ্চ ১০০০০ টাকা তুলার লোভ দেখায় তারা। পাশাপাশি পেমেন্ট রিকুয়েষ্ট দিয়ে ১-২৪ ঘন্টায় পাবে বলে জানায় তারা। কিন্তু টাকা তুলার পরিমান কিছুদিন পরেই তারা কমিয়ে দেয় ও ক্যাশ আউট অপশন রাখে না। তখন বাধ্য হয়ে অনলাইন শপে জিনিস কিন্তে হয় চড়া দামে, এসব জানান ভুক্তভোগীরা। অনেক গ্রাহক বলেন মাসের পর মাস ঘুরেও তারা টাকা পাচ্ছেন না।

রিং আইডির প্রতিষ্ঠাতা কানাডা প্রবাসী আইরিন ইসলাম ও শরিফ ইসলাম। তারা উভয়েই বাংলাদেশি৷ কোম্পানিটি বাংলাদেশি হলেও এই দুইজন বিদেশে থাকেন। এই আইডি যে ব্যাবহার করে সে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ রাখে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক সংস্করণ সম্পন্ন করে। প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট- www.ringid.com. এখানে বিনামুল্যে কল,মেসেজ,স্টিকার,সিক্রেট চ্যাট করার ব্যাবিস্থা আছে।

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৭০০০ এর মতো অনলাইনে শপ আছে। কোনো নিয়ম ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ চালিয়ে গ্রাহকদের থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এসব অনলাইন শপ সম্পর্কে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে বলা হয়েছে , পন্য বুঝে নিয়ে পরে টাকা দিতে হবে আর ঢাকার ভিতরে ৫দিন ও বাইরে ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দিতে হবে। কিন্তু মানছে না কেউ। এখানে কোম্পানির প্রধানদের জেলে ঢুকানো হলেও গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাচ্ছে না ফলে তাদের পুরো টাকাই ক্ষতির মুখে পড়ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button