ফ্রিল্যান্সিং

ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার কৌশল ।

মানুষের আয়ের মাত্রা দিন দিন কমে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কারনে। তারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজ করতে পারছেন না। সেই ক্ষেত্রে যাদের কাছে বাইরে গিয়ে কাজ করার  সুযোগ নেই বা পুঁজি নেই তারা চাইলেই ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারে।  এতে তাকে বাইরে কোথাও যেতে হয় না। করোনা চলাকালীন সময়ে মানুষ বাইরে যাতে পারছে না।  ঘরের ভিতরেই সময় কাটাতে হচ্ছে তাই এই সময়েই উপযুক্ত সময় ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার। ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা খুব সহজ। এতে কোনো কষ্ট নেই।

শুধুমাত্র মাথা খাটিয়েই ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা যাবে। এরকম ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার কিছু উপায় হলোঃ 


১.ফ্রিল্যান্সিংঃ
আপনার অনলাইন কাজের দক্ষতা দ্বারা অনলাইনে কিছু বিক্রি করাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে। এর জন্য আপনাকের বাইরে যেতে হবে না আপনি আপনার ঘরে বসেই অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। শুধু যে দেশের ভিতরেই তা নয় দেশের বাইরেও আপনি এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি অনলাইনে কাজ করবেন ও আপনার প্রাপ্য টাকা বুঝে নিবেন। আপনাকে যে খুব ভাল ফ্রিল্যান্সার হতে হবে বিষয়টি তা নয় আপনার ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলেই হবে।

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য আপনি কম্পিউটার শিখে নিন পরে ঘরে বসে আউটসোর্সিং এর কাজ করেন। দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করা কোনো ব্যাপারেই না। অথবা আপনি ইউটিউব এ ভিডিও করা শিখে নিন পরে ভিডিও তৈরি করে টাকা আয় করতে পারেন। এজন্য আপনার শুধু একটা ডিভাইস হলেই হবে। অনলাইনে আপনি যেকোনো কিছু বিক্রি করতে পারেন। 

২. ই- কমার্সঃ অনলাইনে কেনাকাটা সংক্রান্ত বানিজ্যকে বলা হয় ই-কমার্স।  এখানে ফেসবুক পেইজ বা অয়এবসাইটের মাধ্যমে কাজ করা হয়। এখানে আপনি যেকোনো জিনিস কেনাবেচা করতে পারবেন। আপনি যদি একটা স্যানিটাইজারের কথা ধরেন। আপনি পাইকারি বাজারে একটা কিনতে পারবেন ৪০ টাকা দিয়ে সেগুলো আপনি পরে বিক্রি করতে পারবেন ৭০-৮০ টাকায়। এখানে আপনি দ্বিগুণ টাকা পাচ্ছেন।

এভাবে প্রতিদিনই যদি ২০ টি বিক্রি করতে পারেন তবে আপনার অনেক লাভ হবে। এটা করার জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হচ্ছে না ঘরে বসেই বেচে দিতে পারছেন। আবার আপনি চাইলে মাস্ক,  চকোলেট, কয়েল, চা পাতা সবকিছুর মাধ্যমেই টাকা পেতে পারেন। এর বিস্তৃতি অনেক বড়। আপনার শুধু একটা ফেসবুক পেইজ এর দরকার হচ্ছে যেখানে আপনি আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন আর মানুষ জানতে পারছে।  ফলে অনেক মানুষ এটি সম্পর্কে জানে। মনে রাখবেন সফলতা একদিনে আসে না সফলতা আসতে সময় লাগে। যেকোনো    কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই থেমে গেলে হবে না। শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে।    

৩.এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ এফিলিয়েট শব্দটির সাথে আমরা খুব বেশি পরিচিত নই। তবে এটি খুব সহজ ও লাভবান ব্যাবসা। এখানে আপনার লিংক এর দরকার হবে। আপনার ওয়েবসাইটে আপনি অনেক কিছুই লিখে থাকেন। এরকম একটি গল্প ধরেন যার অল্প একটু আপনি লিখলেন এবং পরে লিখলেন যদি গল্পটা পুরো পড়তে চান তাহলে এই লিংক এ ক্লিক করেন। দেখবেন গল্পটা পড়ার জন্য কত মানুষ   এই লিংক এ ক্লিক করছে। এখান থেকে আপনি একটা এমাউন্ট পাবেন।

এভাবে একদিনে জদি ১০ জন গল্পটা পড়ে আপনি অনেক টাকা পেয়ে যাবেন। সেই ১০ জন ধরেন বইটি পড়ে কিনতে চাইলো । তখন তারা বইটি পড়ে পজিটিভ কমেন্ট করলো। আপনার যা করতে হবে তা হলো বইটির লিংকটা শুধু ফেসবুক বা টুইটারে বা ইনস্ট্রাগ্রামে দিতে হবে যাতে মানুষ জানতে পারে।   

এখানে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে না বা কারো কাছে যেতে হচ্ছে না। ঘরে বসেই খুব সহজে টাকা আয় কররে পারছেন।আপনি চাইলে একটা গল্প বা একটা সম্পূর্ণ বই এর উপরে ভিডিও তৈরি করেন বা অন্য যে বিষয়ে মানুষের আকর্ষণ আছে এগুলোর উপর তৈরি করেন দেখবেন টাকা এমনিতেই আপনার কাছে চলে আসছে। এজন্য আপনার শুধু দরকার কমিউনিকেশন।  আপনার কমিউনিকেশন যত বেশি হবে জনপ্রিয়তা বেশি হবে তত বেশি হবে আপনার ব্যাবসা তত বাড়বে ও আপনি ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারবেন।


৪.অনলাইনে ট্রেনিং দিয়েঃ ঘরে বসে টাকা আয়ের আরেকটা পথ হলো অনলাইনে যেকোনো বিষয়ে ট্রেনিং দিয়ে। আপনি যে বিষয়ে ভালো পাড়েন তা নিয়ে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করে দেন। এজন্য আপনার দরকার শুধু কোনো বিশেষ বিষয়ে পারদর্শী হওয়া। আপনি গান ভালো জানেন তাহলে গানের ট্রেনিং দেন আপনি রান্নায় পারদর্শী তাহলে রান্না নিয়ে ট্রেনিং দেন। আপনি রখানে যেকোনো বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারবেন। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি সব। এখানে কোনো বাধানিষেধ নেই।

আপনি চাইলে পড়াশুনা নিয়ে ও ট্রেনিং দিতে পারবেন। যেকোনো একটা বিষয় কে নিয়ে সময় নিয়ে ভিডিও এর মত  তৈরি করেন। এখানে আপনাকে শুধু একটু সময় দিলেই হবে। আপনি যদি রূপচর্চার বিষয়ে পারদর্শী হন তাহলে কোর্সের মত তৈরি করে নিন। প্রতজনে যদি ২০০০ টাকা করে দেয় ১০ জনকে শিখালে ২০০০০ টাকা পাবেন।  আপনাকে সারাদিন দিতে হবে বিষয়টি এমন নয় খুব অল্প সময় দিলেই হবে। এমনিতেও ঘরেই বসে আছেন বাইরে যেতে পারছেন না এমন সময়ে না হয় কিছু নিয়ে ট্রেনিং দিয়েই ঘরে বসে টাকা আয় করেন। 


৫.ভিডিও মেকিংঃ একটা ফেসবুক পেইজ খুলে সেখানে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানান। অথবা কোনো বিখ্যাত মানুষেত জীবনী লিখেন বা তার জীবনচিত্র তুলে ধরেন। যাতে মানুষ সঠিক তথ্য তার সম্পর্কে পেতে পারে।  বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারবেন। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য কত করে দিতে হবে তা বলে দিলেন। পরে যত বেশি বিজ্ঞাপন তত বেশি টাকা। অথবা আপনি কোনো জিনিস বিক্রির জন্য বা পন্য বিক্রির জন্য এ্যাড দিলেন। পরে সেখান থেকে আপনাকে একটি এমাউন্ট তারা দিবে।

এখানেও আপনি একটু সময় দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন বাইরে না গিয়েই ঘরে বসে বসে। এখানে আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও টাকা পাবেন। কারন আপনার ভিডিও সবসময় সক্রিয় আপনি যদি ঘুমিয়ে থাকেন তখনও টাকা পাবেন। কারন দেশের বাইরে যখন দিন এইখানে রাত বিদেশের মানুষ আপনার ভিডিও টি দেখছে আর আপনি টাকা আয় করতে পারছেন। তার মানে ভিডিও তৈরি করে আপনি ঘুমালেও টাকা আয় হচ্ছে৷ যা খুব সহজ একটি কাজ।       

 
৬.ব্লগ রাইটারঃ ব্লগ রাইটার, কনটেন্ট রাইটার, বা আর্টিকেল রাইটার সবগুলো একই। এখানে কাজ হলো কিছু নিয়ে লেখা। মুলত অনলাইনে কিছু নিয়ে লিখে প্রকাশ করাকেই বোঝায়।  আপনি একটা জায়গায় ঘুরতে গেলেন সেখানের সম্পর্কে আপনি লেখলেন তাহলেই এইটা ব্লগ রাইট।  এখানে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন।  আপনি একটা বিষয় নিয়ে আর্টি কেল লিখলেন। সেইখান থেকে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারল।

তারা সেটি শেয়ার করে দিল বা ভিউ বাড়তে থাকলো। আপনাকে ইউটিউব এ শুধু পোস্ট করলেই হবে। পরে এর একটা কমিশন আপনি পাবেন। আপনি একটি ব্লগ লিখে ডিল করলেন ১০০০ ভিউ এ ১০০ টাকা নিবেন এভাবে দেখবেন সারাদিনে অনেক ভিউ হবে আর টাকা পাবেন। অথবা ১০ মিনিটের আর্টিকেল এ ৫০০ টাকা নিবেন এভাবে ঘরে বসেই অনেক টাকা আয় করার সুযোগ আছে।


৭.ই-টিউটরঃ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। প্রত্যেকটা দেশের আলাদা আলাদা ভাষা আছে। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের ভাষা জানে না। সেক্ষেত্রে যারা বাংলা শিখতে আগ্রহী তাদেরকে বাংলা শিখানো শুরু দেন। একজন শ্রীলঙ্কান বাংলা জানে না সে বাংলা শিখতে চায় কিভাবে পড়তে বা লিখতে হয় তখন আপনি তাকে শিখানো শুরু করে দেন। অথবা অন্য দেশীয় যারা শিখতে চায় তাদের শিখান। শিখানোর আগে বলে দিলেন এক ঘন্টা  শিখিয়ে মাসে ৩০০০ টাকা নিবেন ঠিক কোর্সের মত দেখবেন অনেক মানুষ শিখতে চাইবে।

এভাবে দিনে যদি আপনি ১০ জনকে শিখানোর সময় দেন তাহলে মাস শেষে সহজেই ৩০০০০ টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। শুধু একটু সময় র আপনার শ্রম দিতে হচ্ছে। শুধু যে ভাষাশিক্ষা দিতে হবে তা নয় যেকোনো বিষয়েই শিখাতে পারবেন।   যে হিসাব দেওয়া হলো তার চেয়েও বেশি আয় করতে পারবেন। আর তাও আবার ঘরে বসেই বাইরে যেতে হচ্ছে না। তাই ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় হলো ই-টিউটর। এভাবে ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন।   

    
৮. ভিডিও এডিটঃ বর্তমানে ভিডিও এডিট খুব জনপ্রিয়। এখন কোনো ভিডিওই সরাসরি পোস্ট করা হয় না। এখনে একটু এডট করে   পরে পোস্ট করা হয়। এতে ভিডিও টির মান বৃদ্ধি পায়। যারা আমাদের দেশের বড় বড় ব্যাক্তিত্ব  তারা অনেক ভিডিও বানায় কিন্তু এডিট করার সময় বা এডিট কিভাবে করতে হয় তা সম্পর্কে ভালো ধারণা নেই তাদের ফলে এডিট করাটা তাদের জন্য কষ্টকর।  এইরকম  যারা এডিট করতে পারে না তাদের যদি আপনি এডিট করে দেন তারা আপনাকে একটা কমিশন দিবে। আবার আপনার কাজ ভালো হলে আপনাকে দিয়ে অনেকে কনটেন্ট লিখাবে এখানে আরো বাড়তি টাকা আয় হবে। এভাবে ঘরে বসে টাকা আয় করা যাবে।   


৯.অনলাইন কনসাল্টেন্টঃ বর্তমানে অনেক ফ্যামিলি আছে যাদের ফ্যামিলিতে অনেক সমস্যা থাকে। তাদের সংসারে ঝামেলা লেগেই থাকে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি সাহায্য করতে পারেন তাদেরকে ভালো পথে চালনা করতে পারেন। তাদের সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। আবার আপনি নিউট্রিশনিস্ট বা ডাইটেশিয়ান হয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। আপনি যদি পরামর্শ দেন মানুষ অনেককিছু জানতে পারবে। একটা ফেসবুক পেইজ খুলে নিন আর সেখানে এইসব পরামর্শ দেওয়া শুরু করে দেন। আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। আবার আপনি ইনফ্লুয়েঞ্চার হয়েও কাজ করতে পারেন। এভাবে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা যাবে।                           

 

বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে আপনি যেকোনো কিছু করতে পারেন। এসব পদ্ধতিতে পুঁজির দরকার হয় না। ঘরে বসেই একটু সময় আর শ্রম দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন সুবিধামত। অর্থাৎ ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা যায় ।  

আরও পড়ুনঃ

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা ২০২১     

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার কৌশল।

সহজ উপায়ে অনলাইন থেকে টাকা আয় করুন ।

টিকটক রেফার করে ইনকাম , পাবেন ১০২৪০ টাকা বোনাস ।

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: