প্রচ্ছদ

সিনেমার গল্পকেও হার মানানো মা-মেয়ের পাচার হওয়ার গল্প

কাহিনীটা শুনে মনে হবে পুরো সিনেমার গল্প। যা বিশ্বাস করার মতো নয়। সিনেমার গল্পকেও হার মানানো মা-মেয়ের পাচার হওয়ার গল্প । ঘটনাটি খুশি ও তার মায়ের। ভারতের এক পতিতালয় থেকে তার মা নিজের মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছায় নিজেকে পাচার করে দেন। মেয়েকে যেভাবে পাচার করা হয়েছিল মাকেও ঠিক একইভাবে পতিতালয়ে পাচার করে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ লড়াই , আর মৃত্যুর কথা চিন্তা না করে পাচারকারীদের হাতে হাত বদল হয়ে বারবার। অবশেষে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং মেয়েকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনেন। সিনেমার গল্পকেও হার মানানো মা-মেয়ের পাচার হওয়ার গল্প ।

খুশি নামের মেয়েটি ঢাকার মিরপুরে বাস করতো। তাকে বিউটি পার্লারে চাকরির লোভ দেখানো হয় ও পাচার করা হয় ভারতে। প্রথমে তাকে গাবতলী থেকে নিয়ে যায় সাতক্ষীরা সীমান্তে ও পরে সীমান্তের অপর পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। পাচারের মূল হোতার নাম ছিল নাগীন সোহাগ । যিনি মীরপুরে বাস করতেন। র‍্যাব তাকে আটক করার পর তিনি জানান এভাবে আরও অনেক মেয়েকেই পাচার করেছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মেয়েটি দেশে ফিরে আসার পর তার দুর্ভোগের কথা জানায়। আবার মেয়েটির মায়ের সংগ্রামের কথাও সবার কাছে প্রশংসনীয়।

শেষ মুহূর্তেও পাচারকারীরা ঐ মেয়েটিকে বলেছে, চিন্তার কারণ নেই। তার চাকরি হবে। কিন্তু যখন মেয়েটিকে ভারতের সীমান্ত পার করানো হলো সে বুঝতে পারে সে ভুল করেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো। অবৈধভাবে ভারত নেওয়ার পরে প্রথমে মেয়েটিকে কলকাতায় নেওয়া হয়। পরে তাকে পাঠানো হয় উত্তর দিনাজপুরের এক পতিতালয়ে। খুশির জীবন ভরে গেলো কষ্টে। আর এই দিকে মেয়েকে হারিয়ে খুশির মা দিশাহারা হয়ে যান। মেয়ের খোঁজ নেওয়া শুরু করেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান সন্দেহভাজন পাচারকারীদের নামে। এমনকি মীরপুরের পল্লবী থানায় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে জিডি করার পরেও পুলিশ কোনো আইনি ব্যাবস্থা নেন নি।

অবশেষে খুশির মা পরিচয় না জানিয়ে পাচারকারীদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করে বিদেশে গিয়ে চাকরি চান। সোহাগ জানায় করোনার জন্য বিদেশে লোক পাঠানো বন্ধ কিন্তু বিউটি পার্লারে চাকরি আছে। যার জন্য ভারতে যেতে হবে। খুশির মা রাজি হন। মেয়েকে পাচার করা পথেই তাকে দিল্লি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু খুশি ছিল পশ্চিমবঙ্গে। পরে তিনি পালিয়ে চলে আসেন কলকাতা। তার পরে তিনি জানতে পারেন খুশিকে উত্তর দিনাজপুরের পতিতালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর সাথে সাথে স্থানীয়রা খুশির মাকে এই বলে সতর্ক করে ভিতরে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যাবে না। তাই তিনি সাহায্য নেন স্থানীয় একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের। অনেক অনুরোধের পর এই চেয়ারম্যানের সহায়তায় তিনি উদ্ধার করেন খুশিকে ও মেয়েকে সীমান্তে নিয়ে আসেন। ।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করেকারন তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল না।পরে সব কথা শুনে উভয় পক্ষের বৈঠক করে তাদেরকে দেশে ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ বাহিনী তাদের সাহায্য করেনি। তারা মামলা না করে জিডি করেছে বলে কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয় নি বলে জানায় পুলিশ উপ কমিশনার। কিন্তু র‍্যাব ও সিআউডি তাদের সাহায্য করেছে। অবিশ্বাস্য কষ্টে মেয়েকে উদ্ধার করা এই মা মিডিয়াকে বলেছেন, খুশির মা চান পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। খুশির মা সকল বাবা মাকে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এভাবে পাচার না হয়।

এজন্য সবাইকে সচেতন থাকার কথা বলেছেন তিনি ।

সিনেমার গল্পকেও হার মানানো মা-মেয়ের পাচার হওয়ার গল্প ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button