স্বাস্থ্য

সুস্বাস্থ্য  বজায় রাখতে আমাদের করণীয় -স্বাস্থ্য প্রতিদিন


বাংলায় একটি প্রবাদ বাক্য  প্রচলিত আছে  “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” । সুস্থ থাকা বলতে বোঝায়  সকল প্রকার রোগ ব্যাধি ও চিন্তা ভাবনা থেকে মুক্ত থাকা।শুধু যে শারীরিক স্বাস্থ্য কে বোঝায় তা না এতে মানসিক স্বাস্থ্যও অন্তর্ভূক্ত।  সুস্বাস্থ্য  বজায় রাখতে আমাদের করণীয় কিন্তু খুব বেশি নয় । আর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বেশকিছু নিয়ম ও অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। 


সুস্বাস্থ্য  বজায় রাখতে আমাদের করণীয় ঃ 


     ১. প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।সকালের ঠান্ডা  ও স্নিগ্ধ বাতাস আমাদের মনকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এর ফলে আমরা সারাদিন যেকোনো কাজ  করতে উৎসাহী হয়ে উঠি। বিশেষজ্ঞদের মতে,খালি পেটে আধা লিটার পানি পান করলে তা আমাদের কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।তাছাড়া সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার ফলে একজন মানুষ  যেকোনো কাজ করার জন্য অতিরিক্ত সময় পায় এতে সে তার কাজ নিয়ে ভাবার জন্যও সময় পায়। ইংরেজিতে একটা কথা আছে “Early to bed and early to rise    Makes a man healty wealthy and wise“.

 
       ২.সকালে উঠার পাশাপাশি শরীরচর্চাও করতে হবে। শরীরচর্চা করার ফলে আমাদের রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে হয়ে থাকে।তাছাড়া কিছু ব্যায়াম আমাদের মাংসপেশিকে সবল রাখে, হাতের শক্তি বাড়ায়,পায়ের শক্তি বাড়ায় । তবে অবশ্যই খালি পেটে বেশিক্ষন ব্যায়াম করা যাবে না এতে দেহের আরও ক্ষতি হবে।সকালে হালকা খাবার গ্রহণের পর ব্যায়াম করতে হবে।তবে ব্যায়াম অবশ্যই বয়স অনুসারে হতে হবে। যাদের বয়স কম তাদের জন্য যে ব্যায়াম বেশি বয়সীদের জন্য সেই ব্যায়াম নির্ধারণ করা যাবে না।কিন্তু সকল বয়সীরাই হাঁটার মাধ্যমে ব্যায়াম করতে পারবে।


      ৩.আমাদের পরিমিত পরিমানে খাদ্য গ্রহন করতে হবে।খাদ্যের ছয়টি উপাদান ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করতে হবে যাতে পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হবে। চিনি জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হব। আর খাদ্য অবশ্যই টাটকা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও যথাযথভাবে রন্ধনকৃত হওয়া উচিত।খাদ্য বয়স  ও পরিশ্রম অনুযায়ী গ্রহন করতে হবে।যারা বেশি পরিশ্রম করে তাদের তুলনামূলক বেশি খাদ্য গ্রহন করতে হবে।খাদ্য ভালভাবে রান্না করতে হবে। রান্না ঠিকমত না হলে হজমক্রিয়া ব্যাহত হয়।যা দেহের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।খাবার রান্না ও পান করার জন্য পরিষ্কার পানি ব্যাবহার করা অতি প্রয়োজন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করা উচিত।


    ৪.পরিমিত ঘুম ও বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি কার্যকরী শরীর সুস্থ রাখার জন্য।প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘন্টা  ঘুমাতে হবে।খুব বেশি সময় ধরে দৈহিক পরিশ্রম করলে যে অবসাদ আসে তা দূর করার জন্য বিশ্রাম ও ঘুম প্রয়োজন।  প্রত্যেক ব্যাক্তির দৈহিক শ্রমের একটি সীমা  আছে তা অতিক্রম  করলে অবসাদ দেখা দেয়। সাধারণত অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে আমাদের অবসাদ আসতে পারে,বেশি কাজ করলে অবসাদ আসতে পারে।তাই অবসাদ আসলে  তা থেকে মুক্ত পাওয়ার সহজ উপায় হল বিশ্রাম নেয়া ও ঘুমানো। কিছুক্ষন বিশ্রাম ও ঘুমানোর ফলে একদিকে যেমন আমাদের অবসাদ দূর হয় তেমনি আমরা আবার সতেজভাবে নতুন কাজ শুরু করার উৎসাহ পাওয়া যায়।


  ৫. ব্যাক্তিগত কিছু স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করা উচিত,যেমন-               

  • খাওয়ার পুর্বে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধোয়া।             
  • নিয়মিত গোসল করা ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা।                        
  • নিয়মিত দাঁত মাজা। সম্ভব হলে সকালে ও রাতে নিয়ম করে দুইবার দাঁত মাজা।              
  • সপ্তাহে অন্তত একবার  মনে করে হাতের নখ কাটা।কখনোই দাত দিয়ে নখ কাটা যাবে না। দাত দিয়ে নখ কাটলে পেটের ভিতর ময়লা প্রবেশ করতে পারে              
  • নিজের ক্রোধ সংবরন করা।কারন ক্রোধ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।আগুন যেমন কাঠকে জ্বালিয়ে দেয় ক্রোধ ও মানুষের ভাল গুনগুলোকে জ্বালিয়ে  দেয়।                
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাত মুখ ধুয়ে আসা।           
  • স্রষ্টার নাম নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া।     

৬. সুস্বাস্থ্য বলতে যে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যকে বোঝায়  তা নয় মানসিক স্বাস্থ্যকেও বোঝায় । শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক।মানসিক অশান্তি থাকলে শরীরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলে মানসিক বিকৃতির সৃষ্টি হয়।তাই মানসিক স্বাস্থ্য এর প্রতিও যত্নবান হতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য নিজের পাশাপাশি পরিবেশ পরিষ্কার রাখার প্রতিও যত্নবান হতে হবে এবং তার জন্য ময়লা আবর্জনা    স্তূপ আকারে ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।       

৭. “Prevention is better than cure” অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধেই উত্তম। স্বাস্থ্যকে ভাল রাখার জন্য নিজেকে সকল রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং তার জন্য কিছু কথা আছে তা না জানলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব।   সাধারণত সংক্রামক রোগ জীবানুর মাধ্যমে হয়ে থাকে।তাই জীবানু থেকে বেঁচে চলতে হবে।অর্থাৎ অসুস্থ হওয়ার আগেই কিছু নিয়ম মেনে সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে।। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আমাদের করণীয় আছে আরও কিছু। যেমনঃ       

  • নিজেকে জীবানুমুক্ত রাখতে হবে।তার জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন  থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।         
  • সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের ফল্ ও শাকসবজি খেতে হবে।আর শাকসবজি অবশ্যই টাটকা হতে হবে।       
  • বিশুদ্ধ পানি ও বায়ু সেবন করতে হবে।       
  • স্রষ্টার ইবাদত করতে হবে।         
  • সময়মত বিশ্রাম ও ঘুমাতে হবে।       
  • যেকোনো প্রকার দূর্ঘটনা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।      

আমরা যদি প্রতিদিন সকালে জেগে ওঠা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত নিয়মগুলো মেনে চলি তবে আমরা  আমাদের অবসাদ দূর করে  আমাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারব  ও জীবনকে উপভোগকরতে  পারব। 

সুস্বাস্থ্য  বজায় রাখতে আমাদের করণীয় হলো উল্লিখিত সকল নিয়ম ও অভ্যাস ঠিকমত অনুসরণ করা। 

ক্রেডিটঃ শ্রাবন্তী ফেরদৌস ঋতু

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button